‘হাদি হত্যার বিচার কি আদৌ হবে’—প্রশ্ন ওসমান হাদির স্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:৩৭ এএম
হাদি হত্যার বিচার আদৌ হবে কি না—এই প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা। ছবি সংগৃহীত

হাদি হত্যার বিচার আদৌ হবে কি না—এই প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা। ছবি সংগৃহীত

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি জানতে চেয়েছেন, এই হত্যার বিচার আদৌ হবে কি না এবং কেন ইনকিলাব মঞ্চ এখনো কোনো কর্মসূচির ডাক দিচ্ছে না।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ একটি পোস্ট দেন রাবেয়া ইসলাম সম্পা। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে? ইনকিলাব মঞ্চ কোনো প্রোগ্রামের ডাক কেন দিচ্ছে না?”—এই প্রশ্নই এখন তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিচার হবে না’—এই ধারণা মাথায় আনা যায় না। যেকোনো মূল্যে এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, বিচার না হলে দেশে আর ওসমান হাদির মতো বিপ্লবী ও সাহসী মানুষ জন্ম নেবে না।

তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় এত দেরি কেন হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তি বা ব্যাখ্যায় না গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, কেন সবকিছু সহজভাবে এগোচ্ছে না—তা সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন।

রাবেয়া ইসলাম সম্পা তাঁর পোস্টে ওসমান হাদির একটি বক্তব্য স্মরণ করেন, যেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি লাইন উদ্ধৃত করে বলেছিলেন—সহজ কথা সহজে বলা যায় না। তিনি লেখেন, ওসমান হাদি নিজেই বলতেন, ‘আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ। মুমিনের জীবন মানেই লড়াই ও সংগ্রাম।’ তাই এই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে ওসমান হাদির অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন তাঁর স্ত্রী। তিনি লেখেন, ওসমান হাদি বলতেন—ইনকিলাব মঞ্চ তাঁর প্রথম সন্তান, আর ফিরনাস তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। সংগঠনের কর্মীরা বেতন না পেয়েও, অনেক কষ্টের মধ্যেও নিঃস্বার্থভাবে তাঁর সঙ্গে কাজ করে গেছেন। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি গভীরভাবে ভাবতেন।

পোস্টে রাবেয়া ইসলাম সম্পা আবেগভরে লেখেন, যারা শুধু ভিডিও বা বক্তব্য শুনে ওসমান হাদিকে ভালোবাসেন, তারা যেন একবার ভাবেন—আজ তাঁর সহযোদ্ধা ভাই-বোনেরা কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যাদের কাছে তিনি ছিলেন সারাক্ষণের ছায়া, সেই মানুষগুলো এখন চরম মানসিক যন্ত্রণায় আছেন।

তিনি আরও লেখেন, ওসমান হাদি বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন—তাঁকে নিয়ে সমালোচনা করা হোক, কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের নিয়ে কিছু বলা তিনি সহ্য করতেন না।

পোস্টের শেষাংশে রাবেয়া ইসলাম সম্পা শহীদ ওসমান হাদির একটি উক্তি উদ্ধৃত করে লেখেন, “দাসত্বই যদি জমিনের নিশ্চল নিয়তি হয়, তবে লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত।” তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি এবং আন্দোলনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।