মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চরম ভোগান্তি

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২ মার্চ, ২০২৬ এ ৪:১৩ এএম
ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক হামলার পর সৃষ্ট অস্থিরতায় একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনে মোট ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিলের তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। তিনি বলেন, “পরিস্থিতির কারণে অনেক এয়ারলাইন্স নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারেনি। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে Emirates-এর একটি, Gulf Air-এর একটি, Flydubai-এর একটি, Air Arabia-র তিনটি, US-Bangla Airlines-এর ছয়টি এবং Biman Bangladesh Airlines-এর ১১টি ফ্লাইট।

রোববার (১ মার্চ) বাতিলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০-এ। ওইদিন Jazeera Airways-এর দুইটি, এমিরেটসের পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুইটি, ফ্লাই দুবাইয়ের চারটি, Qatar Airways-এর দুইটি, SalamAir-এর দুইটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার আটটি, Kuwait Airways-এর দুইটি, ইউএস-বাংলার চারটি এবং বিমানের নয়টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

সোমবার (২ মার্চ) আগাম ঘোষণা অনুযায়ী আরও ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটসের পাঁচটি এবং গালফ এয়ারের দুইটি ফ্লাইট রয়েছে। যদিও কিছু ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তবে যাত্রীদের অভিযোগ—বাস্তবে বেশিরভাগ ফ্লাইটের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক আকাশপথে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যাত্রীদের নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।