জানুয়ারিতে একাধিক শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা, ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন


ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে, বিপর্যস্ত জনজীবন। ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া দিনের তাপমাত্রা, ঘন কুয়াশা ও সূর্যের অনুপস্থিতিতে পৌষ মাসেই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জানুয়ারি মাসে ৪–৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। কুয়াশা, বায়ুদূষণ ও বৃষ্টির অভাবে শীতের তীব্রতা বেড়ে জনজীবন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সারা দেশে দিনের বেলা রোদের দেখা কম, চারপাশে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডার চাদর। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে কুয়াশার কারণে বিমান, নৌ, সড়ক ও রেল যোগাযোগে নিয়মিত বিঘ্ন ঘটছে। কৃষক ও খামারিরা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন, যদিও শীতবস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শীতকাল তুলনামূলক ছোট হলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সাধারণত বৃষ্টিতে কুয়াশা কেটে আকাশ পরিষ্কার হয়, কিন্তু বায়ুদূষণের তীব্রতায় কুয়াশাবলয় স্থায়ী হচ্ছে। সহসা বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকায় এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, জানুয়ারিতে ৪–৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দু–তিনটি মাঝারি এবং একটি তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কুয়াশাবলয় থাকায় সূর্যের আলো ভূ-পৃষ্ঠে পৌঁছাচ্ছে না, ফলে শীতের অনুভূতি বেশি। জানুয়ারিজুড়ে কখনো কমবে, কখনো বাড়বে।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, শীতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে এবং ঘন কুয়াশা বেড়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়, যা গত ২০ বছরে বিরল। কয়েক দিন আগেই তাপমাত্রা ছিল ২৮–২৯ ডিগ্রি। তিনি বলেন, আকাশ পরিষ্কার থাকলে তাপমাত্রা আরও কম হলেও শীত কম অনুভূত হয়। আশা করা যায়, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
এদিকে শনিবার রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘন কুয়াশায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ ব্যাহত হয়; কয়েকটি ফ্লাইট ২–৪ ঘণ্টা দেরিতে নামে।
জেলায় জেলায় শীতের প্রভাব স্পষ্ট। কুড়িগ্রামে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; সূর্যের দেখা না মেলায় শীত বেশি অনুভূত হয়। পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি, নওগাঁ ও জয়পুরহাট এলাকায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বরিশালেও তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মেহনাজ পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ও সুষম খাদ্যের পরামর্শ দেন। কৃষকরা জানান, তীব্র শীতে ইরি ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রোপণ মৌসুমে চারা সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে শীতের তীব্রতা জানুয়ারিজুড়ে ওঠানামা করতে পারে। ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টির অভাব থাকলে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আরও অনুভূত হবে। স্বাস্থ্যসুরক্ষা, কৃষিখাতে সতর্কতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রস্তুতি জোরদারের তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।










