ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের কঠোর অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১৬ আগস্ট, ২০২৫ এ ৪:৩২ এএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশসহ ৩১টি আরব ও ইসলামি দেশ। শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ নিন্দা জ্ঞাপন করেন। খবর শাফাক নিউজের।

বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডান, মিসর, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়া প্রভৃতি দেশ এবং আরব লীগ, ওআইসি ও জিসিসির মহাসচিবরা জাতিসংঘ সনদের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বলপ্রয়োগ, দমননীতি কিংবা দখলদারিত্ব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের বিতর্কিত ওয়েস্ট ব্যাংক ‘ই-ওয়ান সেটেলমেন্ট প্রকল্প’ অনুমোদন এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাকেও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এসব কার্যক্রমকে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার অধিকারে সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মতামতের প্রতি ইঙ্গিত করে দেশগুলো জানায়, দখলকৃত ভূমির জনসংখ্যাগত কিংবা আইনি অবস্থান পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। তারা সতর্ক করে দিয়েছে, অবৈধ বসতি স্থাপন, ভূমি দখল, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, শরণার্থী শিবির ধ্বংস ও ধর্মীয় স্থানে হামলার ফল ভয়াবহ হতে পারে।

গাজা প্রসঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা, জাতিগত নির্মূল এবং ক্ষুধাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। দেশগুলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা অবাধ প্রবেশাধিকার ও অবরোধ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানায়।

বিবৃতির শেষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যাতে তারা ইসরায়েলের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার নিশ্চিত করে।