যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় ইরান, প্রস্তুতির কথা জানালেন আরাগচি


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি—যুদ্ধ ও পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কোনো ধরনের উদ্বেগে নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর দাবি, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত শুরু হলে তা শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুদ্ধের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যদিও এমন পরিস্থিতি সবার জন্যই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
একই সাক্ষাৎকারে আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো সম্ভব, যদিও ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের আস্থার ঘাটতি রয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা আর পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য আলোচনাসঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করতে পারছি না।’ তবে তিনি জানান, আঞ্চলিক বন্ধুসুলভ দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান–প্রদানের ফলে আলোচনা পুরোপুরি থেমে নেই এবং কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতিও হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি না দিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার ধরন নয়, বরং আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাই হওয়া উচিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অসম্ভব বিষয় নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার অর্থ নেই। পারমাণবিক অস্ত্র যেন না থাকে—এমন একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো আছে, এবং তা অল্প সময়ের মধ্যেই সম্ভব।’ এর বিনিময়ে ইরান দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার স্বীকৃতির প্রত্যাশা করছে।
তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত—এমন বার্তাও দেন আরাগচি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন যুদ্ধ ‘সবার জন্যই ভয়াবহ বিপর্যয়’ ডেকে আনবে এবং সে ক্ষেত্রে পুরো অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।









