গ্রিনল্যান্ডকে উপেক্ষা করে কোনো চুক্তিই মানা হবে না: প্রধানমন্ত্রী নিলসেন

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৩ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৮:৪৭ এএম
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তি গ্রিনল্যান্ডকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে চুক্তির কথা বলেছেন, সে বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানেন না।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানী নুক-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এর আগে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তির ঘোষণা দেন, যা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করার এখতিয়ার একমাত্র গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব অবশ্যই সম্মান করতে হবে। আমাদের বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন এবং দাবি করেন, একটি কূটনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে। তবে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আলোচনায় উঠে আসা ওই চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত ও বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

নিলসেন জানান, বলপ্রয়োগের প্রসঙ্গ বাদ পড়ায় তিনি স্বস্তি পেলেও চুক্তির আলোচনায় তিনি অংশ নেননি এবং বিষয়বস্তুও তার অজানা। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা হলে সেখানে গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব অপরিহার্য।

এদিকে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক ১৯৫১ সালের গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে পর্যালোচনা করতে পারে। তবে গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে দেওয়ার কোনো আলোচনা হয়নি বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী নিলসেন বলেন, ‘যদি আমাদের কোনো পক্ষ বেছে নিতে হয়, তবে আমরা ডেনমার্ক রাজ্যকেই বেছে নেব, আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকব এবং ন্যাটোর সঙ্গেই আমাদের অবস্থান বজায় রাখব।’

এর আগে গ্রিনল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী মুটে এগেদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আমাদের ভূমি অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তার এই মন্তব্য দেশটির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানাল, তাদের সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি