জেফরি এপস্টেইন আসলে কে? অপরাধ ও রহস্যের নেপথ্য গল্প

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:৫৮ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে পুরনো ছবিতে জেফরি এপস্টেইন। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে পুরনো ছবিতে জেফরি এপস্টেইন। ছবি: সংগৃহীত

যৌন অপরাধ ও মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন কে ছিলেন, কীভাবে তিনি ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছান এবং কেন তার মৃত্যু আজও রহস্য—এসব প্রশ্ন ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনা থামেনি। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচার চলাকালে তার মৃত্যুর পর নতুন করে সামনে আসছে তার জীবনের অন্ধকার অধ্যায়।

যৌন নিপীড়ন ও কিশোরী পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের নাম প্রথম আলোচনায় আসে ২০০৫ সালে। তবে ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি জেলখানায় বিচারাধীন অবস্থায় তার রহস্যজনক মৃত্যুর পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী এটি আত্মহত্যা হলেও, নানা অনিয়ম ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সম্প্রতি ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে ‘এপস্টেইন ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাস হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পর এপস্টেইন-সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হলে আবারও আলোচনায় আসে তার অপরাধী জীবন ও ক্ষমতাধরদের সঙ্গে সম্পর্ক।

নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা এপস্টেইন শুরুতে একটি বেসরকারি স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। সত্তরের দশকে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগ ব্যাংক ‘বেয়ার স্টার্নস’-এ যোগ দেন এবং মাত্র চার বছরের মধ্যে পার্টনার হন। ১৯৮২ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোং’ গড়ে তুলে তিনি দ্রুত বিলিওনেয়ারে পরিণত হন।

অভিযোগ রয়েছে, বিপুল সম্পদের আড়ালে তিনি কিশোরী পাচার ও যৌন নির্যাতনের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। নিউ ইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও নিউ মেক্সিকোতে বিলাসবহুল প্রাসাদ এবং একটি ব্যক্তিগত দ্বীপ ছিল তার কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।

এপস্টেইনের সামাজিক বলয় ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের রাজকীয় উপাধি হারান।

২০০৮ সালে এপস্টেইন একটি বিতর্কিত ‘প্লি ডিল’-এর মাধ্যমে কঠোর শাস্তি এড়ান, যা পরবর্তীতে ‘শতাব্দীর সেরা সমঝোতা’ হিসেবে সমালোচিত হয়। তবে ২০১৯ সালে নতুন করে মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হলে তার বিচার শুরুর আগেই মৃত্যু ঘটে।

এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার সহযোগী গিজলেন ম্যাক্সওয়েল দোষী সাব্যস্ত হলেও, এপস্টেইন কাণ্ড আজও শেষ হয়নি। প্রকাশিত নথি ও চলমান তদন্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—এই অপরাধচক্রে আর কারা জড়িত ছিল। সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় এখনো বিশ্ববাসী।

সূত্র: বিবিসি