ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইয়েমেনে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৪ নভেম্বর, ২০২৫ এ ৪:১৫ এএম
ইয়েমেনের সানায় হুথি নিয়ন্ত্রিত আদালতে গুপ্তচরবৃত্তি মামলার রায় ঘোষণার পর নিরাপত্তা বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের সানায় হুথি নিয়ন্ত্রিত আদালতে গুপ্তচরবৃত্তি মামলার রায় ঘোষণার পর নিরাপত্তা বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত একটি আদালত। হুথি-চালিত গণমাধ্যমের বরাতে টাইমস অব ইসরাইল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মামলাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাবা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, রাজধানী সানায় অবস্থিত দ্য স্পেশালাইজড ক্রিমিনাল কোর্ট নামে পরিচিত আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে জড়িত একটি গুপ্তচর নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের দাবি, অভিযুক্তরা ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদসহ একাধিক দেশের হয়ে তথ্য সংগ্রহে সক্রিয় ছিলেন।

একই মামলায় আরও একজন পুরুষ ও একজন নারীকে দশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আরেকজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল বাসিত গাজী জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আপিল দাখিল করতে পারবেন। রায়ের কঠোরতা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২০২৪–২০২৫ সালে শত্রু দেশের সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে গোপন তথ্য সংগ্রহ, নাগরিকদের উসকানি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব কাজে জড়িত থাকার ফলে ইয়েমেনের বিভিন্ন সামরিক, নিরাপত্তা ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয় এবং উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

সাম্প্রতিক সময়ের আঞ্চলিক উত্তেজনায় এই মামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষত ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাবি ইসরাইলি হামলায় নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেফতার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় কঠোরতা ও নজরদারি উভয়ই বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। ভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। ফলে আঞ্চলিক শত্রুতাও আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।