শতাব্দীর দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ কবে, দিনে নামবে রাত

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৩২ পিএম
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের আড়ালে ঢাকা সূর্য, আকাশে নেমে আসে অস্বাভাবিক অন্ধকার। ছবি: সংগৃহীত

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের আড়ালে ঢাকা সূর্য, আকাশে নেমে আসে অস্বাভাবিক অন্ধকার। ছবি: সংগৃহীত

একুশ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটতে যাচ্ছে আগামী ২ আগস্ট ২০২৭। এদিন চাঁদের আড়ালে সূর্য পুরোপুরি ঢাকা পড়বে এবং সর্বোচ্চ ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এটি হবে এই শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, যার ফলে দিনের বেলায় কিছু সময়ের জন্য রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসবে।

সূর্যগ্রহণের সময় ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অংশ কয়েক মিনিটের জন্য অস্বাভাবিক অন্ধকারে ঢেকে যাবে। সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে যাওয়ায় অনেক এলাকায় দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, সেখানে দুপুরের আকাশ হঠাৎ সন্ধ্যার মতো হয়ে উঠবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপের বেশির ভাগ অংশ, পশ্চিম এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আংশিক সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ থেকে এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে।

বহু বছর ধরেই বিজ্ঞানীরা এই বিরল গ্রহণের পূর্বাভাস দিয়ে আসছিলেন। আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সহায়তায় এখন গ্রহণের সময়কাল, চাঁদের ছায়ার গতিপথ এবং কোন অঞ্চল থেকে কতটা দৃশ্যমান হবে—সবকিছুই নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সরু পথটি শুরু হবে মরক্কো ও দক্ষিণ স্পেন থেকে। এরপর এটি অতিক্রম করবে আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিসর ও সৌদি আরব। শেষ পর্যন্ত ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলে গিয়ে এই গ্রহণের পথ শেষ হবে। এই কেন্দ্রীয় পথের দুই পাশে বিস্তীর্ণ এলাকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

চাঁদের ছায়া ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর ওপর দিয়ে অগ্রসর হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মরুভূমি, নদীতীর, খোলা মাঠ কিংবা শহরের ছাদ—সব জায়গা থেকেই মানুষ এই বিরল ও ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, জীবদ্দশায় এমন দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ খুব কমই আসে।