যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:০৬ এএম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা যাচাই করতে বা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায়, তাহলে তেহরান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকার কথাও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ নয় উল্লেখ করে আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়। তবে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। ওয়াশিংটন যদি সামরিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করে, তার জবাব দেওয়ার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতকে ঘিরে যে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, বর্তমানে তা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা হয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংগঠিত ও কার্যকর বলেও দাবি করেন তিনি।

আব্বাস আরাগচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার আমাদের সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চায়, আমরা তার জন্য প্রস্তুত। তবে আমরা আশা করি, ওয়াশিংটন যুদ্ধ নয়, আলোচনার পথকেই বেছে নেবে।” একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে চায়, তাদের প্রতিও কড়া সতর্কবার্তা দেন।

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলমান আন্দোলনে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠী বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখোমুখি। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন বড় শহরে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনে একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক সংস্কার ও জনগণের কথা শোনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আঞ্চলিক উত্তেজনা, অভ্যন্তরীণ আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও ইরান একদিকে কূটনীতির দরজা খোলা রাখছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতের জন্য সামরিকভাবে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিচ্ছে। আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথ বেছে নেয়, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়ে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।

সূত্র: আল জাজিরা