ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা ঘিরে বিতর্ক, চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২ মার্চ, ২০২৬ এ ৩:৫৭ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জনমত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত রয়টার্স-ইপসোসের এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রায় অর্ধেক নাগরিক এই হামলার সরাসরি বিরোধিতা করছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ও রোববার (১ মার্চ) পরিচালিত এ জরিপ এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন পালটা হামলায় প্রথমবারের মতো একজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর সামনে আসে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন নতুন করে রাজনৈতিক চাপে পড়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিনি এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে ৪৩ শতাংশ নাগরিক সরাসরি যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া ২৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে হামলার পক্ষে মত কিছুটা বেশি, যেখানে ৫৫ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক বলেছেন, যদি এই যুদ্ধের ফলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি বাড়ে, তবে তারা সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ৭৪ শতাংশ এই সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন এবং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা **আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি**কে হত্যার পর ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘ন্যায়সঙ্গত মিশন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ঘোষণা দেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ তার নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ডগ ব্যান্ডো মন্তব্য করেছেন, মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর খবর যুদ্ধের বাস্তবতা স্পষ্ট করে তুলেছে। তার ভাষায়, “মানুষ এখন বুঝতে পারছে এটি কোনো দূরের সংঘাত নয়, এর সরাসরি মূল্য আছে।” একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৫ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তারা এই অভিযানের সমর্থন থেকে সরে আসবেন। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় কিছু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি কার্যক্রম সীমিত করেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেনেটর **ক্রিস ভ্যান হোলেন**সহ কয়েকজন নেতা ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাসের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হয়। চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে ভোটাভুটির সম্ভাবনা রয়েছে। ইরান, ইসরাইল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নজরে বিশ্ববাসীর।

সূত্র: আলজাজিরা।