ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ দাবানল, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি


উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিখ্যাত ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স ও নন্দাদেবী জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই এই দাবানলের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে এবং রাজ্যজুড়ে একাধিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে দাবানল এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথে অভিযান চালাতে হচ্ছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর চপার হেলিকপ্টার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
দাবানলের বিস্তার এতটাই ব্যাপক যে মহাকাশের স্যাটেলাইট থেকেও আগুনের লেলিহান শিখা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই একাধিক স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে।
আবহাওয়াবিদ ও বন দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চলতি শীতে হিমালয়ের এই অংশে উল্লেখযোগ্য তুষারপাত ও বৃষ্টিপাত হয়নি। দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বনভূমির মাটি ও গাছপালা অত্যন্ত শুকিয়ে গেছে। এতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়।
ফরেস্ট সার্ভে অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় উত্তরাখণ্ড রাজ্যের জন্য ইতোমধ্যেই এক হাজার ৬০০টিরও বেশি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। নন্দাদেবী বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের কিছু অংশ নতুন করে দাবানলের কবলে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বন বিভাগ।
পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতকাল ক্রমশ উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে উঠছে, যা এই ধরনের দাবানলের প্রধান কারণ। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই আগুন হিমালয় অঞ্চলের অমূল্য জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধস ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা বহুগুণে বেড়েছে।
ইউরোপীয় কোপারনিকাস সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের ধারণ করা চিত্রে উত্তরাখণ্ডের দাবানলের ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। যদিও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তোলা ছবিটি আলোচনায় এসেছে, তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।










