মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশ থেকে নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৩ মার্চ, ২০২৬ এ ৩:৩০ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার জারি করা এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সামরিক পদক্ষেপের পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ কারণে তালিকাভুক্ত দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবহার করে দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ সতর্কতার আওতায় রয়েছে— বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এছাড়া ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা অঞ্চলও এই সতর্কতার অন্তর্ভুক্ত।

পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী সচিব মোরে নামদার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, “গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবহার করে এখনই দেশ ত্যাগ করতে হবে।” তার এই বক্তব্য পরিস্থিতির তাৎপর্য আরও স্পষ্ট করেছে।

এদিকে আম্মান-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, নিরাপত্তা হুমকির কারণে তাদের কিছু কর্মী কূটনৈতিক স্থাপনা ত্যাগ করেছেন। ওয়াশিংটন থেকে Al Jazeera-এর প্রতিবেদক প্যাটি কালহেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার এমন ঘোষণা অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন। তার মতে, সাধারণত নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক ও কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্দেশনা পরিস্থিতির গভীর উদ্বেগ ও সতর্কতারই প্রতিফলন। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে মার্কিন কূটনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করা হতে পারে বলেও কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।