অসংখ্য গ্রাম প্লাবিত

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে চার দশকের সবচেয়ে বড় বন্যা

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৯ আগস্ট, ২০২৫ এ ১০:০৫ এএম
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মারিয়াম আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, পাঞ্জাবে বন্যাজনিত ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মারিয়াম আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, পাঞ্জাবে বন্যাজনিত ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে পানি ছাড়ার পাশাপাশি টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে দেখা দিয়েছে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সামা টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রদেশের ঝাং জেলায় চেনাব নদীতে প্রবল ঢল নেমে আসায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। আতহারা হাজারি এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধের কাছে দোকানপাট সরিয়ে নিতে মাইকিং চলছে। ২০১৪ সালের ভয়াবহ বন্যাতেও একই বাঁধ কেটে পানি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল প্রশাসনকে।

এদিকে, প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, রাভি নদীতে পানির প্রবাহ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। রাভি সাইফনে পানির প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার কিউসেকেরও বেশি। শাহদরায় প্রবাহ পৌঁছেছে ২ লাখ ১ হাজার কিউসেকে। এতে নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মুলতান শহর রক্ষায় প্রশাসন দুটি বাঁধ কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অপরদিকে লাহোরে শাহদরায় রাভি নদীর পানি দুপুর নাগাদ ২ লাখ কিউসেক ছাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও নদী সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি বহনে সক্ষম, তবুও পানির চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চল থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়া ও উদ্ধার নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে।

লাহোরের ডেপুটি কমিশনার মুসা রাজা জানান, শাহদরায় বর্তমানে পানির প্রবাহ ২ লাখ ১১ হাজার কিউসেক ছাড়িয়েছে, তবে আগামী ১০ ঘণ্টায় তা কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত লাহোরে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ১৮টি ত্রাণশিবিরে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাহাওয়ালপুরে সুতলেজ নদীর পানির চাপ সাময়িক বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। ইউসুফওয়ালা ও আহমদওয়ালার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শত শত একর তুলা ও ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। সারগোধার কোট মোমিন এলাকায় চেনাব নদীতে ৬ লাখ কিউসেকের প্রবাহ প্রবেশ করায় গ্রাম ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, প্রবাহ ১০ লাখ কিউসেক ছাড়াতে পারে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মারিয়াম আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত পাঞ্জাবে অন্তত ১২ জন বন্যাজনিত ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসল হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ডেরা গাজী খান, রাজনপুর ও রোজহানসহ বিভিন্ন জেলায় সরাসরি তদারকি করছে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিবির খোলা হয়েছে এবং পুলিশ মাইকিং করে মানুষকে সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানাচ্ছে।