কিভাবে প্রথম শিকার ধরেন এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েল


জেফরি এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েল: কিশোরী শিকার চক্রের মূল ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি ‘এপস্টেইন ফাইলস’ প্রকাশ করেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের শিশু পাচার ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় তার এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। এই নথিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে ১৯৯৪ সাল থেকে কিশোরী মেয়েদের প্রথম শিকার করা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তারা কীভাবে তাদের জালে ফেলা হত।
১৯৯৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে মিশিগানের ইন্টারলোচেন স্কুল অব দ্য আর্টস-এর একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে জঘন্য চক্রের শুরু হয়। তখন ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরী, যাকে আদালতের নথিতে ‘জেন ডো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গানের প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। এসময় এপস্টেইন নিজেকে একজন শিল্প অনুরাগী ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচয় দেন এবং জানান, প্রতিভাবান তরুণদের বৃত্তি প্রদান করা তার লক্ষ্য।
জেন ডোর পরিবার তখন আর্থিক সংকটে ছিল। এপস্টেইন ও গিলেইন তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা, বাসস্থান ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চান। কয়েক মাস পর তারা ফোনে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান, যা জেন ডোর জীবনের প্রথম দুঃস্বপ্নের সূচনা।
এরপর থেকে জেন ডো নিয়মিতভাবে এপস্টেইনের বাড়িতে যেতেন। সেখানে সুইমিংপুলে সময় কাটানো, সিনেমা দেখা এবং শপিংয়ের মধ্যে দিয়ে জেন ডোকে ধীরে ধীরে শোষণ করা হতো। গিলেইন ম্যাক্সওয়েল বড় বোনের মতো আচরণ করলেও, এপস্টেইন ও গিলেইনের যৌথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেয়েদের গ্রুমিং ও শিকার করা হতো।
২০০৪ ও ২০০৫ সালে এপস্টেইনের বাড়িতে নেওয়া মেয়েদের বয়স ছিল ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। নথিতে দেখা গেছে, নতুন কাউকে আনার বিনিময়ে মেয়েদের প্রতি ২০০ ডলার দেওয়া হতো। এপস্টেইন কিশোরীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র চালিয়ে গেছেন।
২০২০ সালে জেন ডো তার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এপস্টেইন ও গিলেইনকে মেয়েরা প্রাথমিকভাবে ‘পরিবারের মতো’ মনে করত। তবে এদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের যৌন নির্যাতন ও তাদের নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করা। ২০২৩ সালে আরও একজন এফবিআইকে জানিয়েছিলেন, তিনি সাক্ষ্য দিতে ভয় পান, কারণ তার পরিচয় প্রকাশ পেলে জীবন বিপদের মুখে পড়তে পারে।
এপস্টেইনের মৃত্যুর পর ২০২১ সালে গিলেইন ম্যাক্সওয়েলকে শিশু যৌন পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। চলতি সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা, ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করেছে। এই নথিতে বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক ও অপরাধের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের চক্র বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রকাশিত নথি ও ভিডিওসমূহ থেকে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে কিশোরী মেয়েদের ওপর কীভাবে যৌন নির্যাতন ও শোষণ চালানো হতো। মামলাগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।









