ইরানের বিক্ষোভে হাজারো হত্যার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে দায়ী খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:২২ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা ও হাজারো হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শনিবার ইরানের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব অভিযোগ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দেন।

ভাষণে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ কোনো স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয়; বরং এটি একটি বিদেশি ষড়যন্ত্র। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন এবং ইসরাইল-সমর্থিত শক্তিগুলো ইরানজুড়ে ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি মদদে পরিচালিত এই সহিংসতায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-সংযুক্ত শক্তিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে।”

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান সীমান্তের বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার পথে হাঁটবে না। তবে যারা এই সহিংসতার জন্য দায়ী, তারা কোনোভাবেই শাস্তি এড়াতে পারবে না। খামেনির ভাষায়, “আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু দেশীয় বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ছাড়ও দেওয়া হবে না।”

খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে আবারও রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। তার মতে, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

এদিকে রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় ইরান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ইরান ৮০০ জনের বেশি বন্দির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে, যা তিনি “সম্মানজনক সিদ্ধান্ত” বলে উল্লেখ করেন।

রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বর্তমানে অনেকটাই স্তিমিত। আট দিন বন্ধ থাকার পর ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমিত উন্নতি হয়েছে এবং তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো কঠোর রয়েছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ব্যাপক দমন-পীড়নের কারণে প্রকাশ্য প্রতিবাদ কমে গেছে।