কোনো পুরুষ দেখলেই এখন ভয়ে শরীর কাঁপতে শুরু করে: রিয়া চক্রবর্তী


সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। ছবি সংগৃহীত
২০২০ সালে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিতর্ক, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। মুম্বাইয়ে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রিয়া জানিয়েছেন, সেই সময়ের মানসিক ট্রমা আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। জেল থেকে ফেরার পর এখনো কোনো পুরুষকে সামনে দেখলে ভয়, অস্বস্তি ও শরীর কাঁপতে শুরু করে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর রিয়া চক্রবর্তীর নাম তদন্তের কেন্দ্রে উঠে আসে। একাধিকবার আদালতে হাজিরা, গণমাধ্যমের তীব্র নজরদারি এবং শেষ পর্যন্ত এক মাস সংশোধনাগারে কাটাতে হয় তাঁকে। এই পুরো সময়টায় কার্যত বদলে যায় তাঁর জীবন। রিয়া জানান, একের পর এক আইনি লড়াই ও সামাজিক চাপ তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।
এই বিতর্কের প্রভাব সরাসরি পড়েছিল তাঁর অভিনয়জীবনেও। কাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন রিয়া। ক্যামেরা, শুটিং ফ্লোর এবং অভিনয়ের জগত থেকে প্রায় ছয় বছর দূরে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি আবার অভিনয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেত্রী, তবে সেই ফেরা মোটেও সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে রিয়া বলেন, সুশান্তের মৃত্যুর পর যখন তাঁকে জেলে নেওয়া হয়, সেই দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় কোটি কোটি মানুষ দেখেছেন। তাঁর আক্ষেপ, সেই দর্শকদের বড় অংশই পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে পাওয়া তাঁর ক্লিনচিটের গুরুত্ব বুঝতে চাননি। রিয়ার ভাষায়, “যদি অন্তত এক কোটি মানুষও সেই রায়ের মানে বুঝত, তাহলে হয়তো পরিস্থিতিটা একটু আলাদা হতো।”
জেল থেকে মুক্তির পর মানসিকভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লেগেছে তাঁর। রিয়া স্বীকার করেন, এক ধরনের ভয় তাঁর মনের ভেতরে স্থায়ীভাবে বসে গেছে। বাইরে বেরোতে ইচ্ছা করত না, পৃথিবীকে বাসযোগ্য মনে হতো না। এই ভয় আজও পুরোপুরি কাটেনি।
নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে রিয়া চক্রবর্তী বলেন, দরজা খুলে সামনে কোনো পুরুষকে দেখলেই অজান্তেই খারাপ চিন্তা মাথায় আসে। তখন হাত-পা কাঁপতে শুরু করে, এক অদ্ভুত আতঙ্ক গ্রাস করে তাঁকে। তাঁর মতে, এই অনুভূতি সেই সময়ের অভিজ্ঞতারই ফল, যা সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, আইনি লড়াই থেকে মুক্তি পেলেও রিয়া চক্রবর্তীর জীবনে সেই অধ্যায়ের মানসিক ক্ষত এখনো রয়ে গেছে। অভিনয়ে ফেরার মাধ্যমে নতুন করে পথচলা শুরু করলেও, অতীতের ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাঁকে এখনো লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।










