সিদ্ধিরগঞ্জে অনলাইন জুয়া বিরোধে তরুণ তাকবির হত্যা-গ্রেপ্তার ২

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ এ ৫:৫০ এএম
সিদ্ধিরগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণ তাকবির আহমেদের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামি। ছবি: সংগৃহীত

সিদ্ধিরগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণ তাকবির আহমেদের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামি। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধের জেরে তাকবির আহমেদ (২২) নামের এক তরুণকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং বেকার থাকায় বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি বাইরে বেরিয়ে আর ফেরেননি। দীর্ঘসময় যোগাযোগ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা অনুসন্ধান শুরু করেন।

পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়রা ওয়াপদা কলোনির পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর পরিত্যক্ত ভবনের প্রথম তলার একটি কক্ষে অজ্ঞাত এক তরুণের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়। পরে নিহত ব্যক্তিকে তাকবির আহমেদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় তাকবিরের বাবা নুর মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন তথ্য এবং মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মো. হারুন (৩৪) এবং তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনি মোড় থেকে মো. রফিকুল (৩৮)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেখানো মতে রফিকুলের ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকানো তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেন, মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে তাকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড ব্যবহার করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল তারা।

পরদিন ২৮ নভেম্বর আদালতে সোপর্দ করলে দুই আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং আসামিদের অতীত অপরাধের তথ্য যাচাই করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলে প্রস্তুতি চলছে।