ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাব ফিফা সভাপতির


ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—শান্তি পুরস্কার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কে, কী বলেছেন, কখন ও কেন—সব প্রশ্নের জবাবে ইনফান্তিনো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প এই পুরস্কার পাওয়ার ‘যোগ্য’ ছিলেন বলেই ফিফা মনে করে।
গত ডিসেম্বর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দিয়ে সম্মান জানায় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবল ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং সিদ্ধান্তটিকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত বলে আখ্যা দেয়।
এই ঘটনার পর একই সময়ে কিছু দেশ ও সমর্থকগোষ্ঠী ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছিল। তবে ইনফান্তিনো সেই আহ্বানকে সমর্থন করেননি। বরং তিনি ফুটবলকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন।
এ প্রসঙ্গে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘যেখানে কখনো ব্যবসা বা অর্থনীতিকে বয়কট করার ডাক ছিল না, সেখানে কেন ফুটবলকে বয়কট করা হবে?’ তার মতে, ফুটবল এমন একটি মাধ্যম, যা বিভক্ত বিশ্বে মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে পারে।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘বিশ্ব আজ গভীরভাবে বিভক্ত। ফুটবল এই বিভাজন কমাতে পারে এবং মানুষকে একত্রিত করার শক্তি রাখে।’ তিনি মনে করেন, খেলাধুলাকে নিষেধাজ্ঞা ও বয়কটের হাতিয়ার বানালে তা শান্তির বদলে ঘৃণা ও হতাশা বাড়ায়।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গেও কথা বলেন ফিফা সভাপতি। তিনি জানান, বিষয়টি ভবিষ্যতে ‘দেখা হবে’। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে রাশিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ। ইনফান্তিনোর মতে, দীর্ঘমেয়াদি বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
সবশেষে বলা যায়, ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া নিয়ে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ না থাকলেও ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো তার অবস্থানে অনড়। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, ফিফা এখনো খেলাধুলাকে বৈশ্বিক ঐক্যের মাধ্যম হিসেবেই তুলে ধরতে চায়, যদিও সে পথে সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না।










