ফোনের ব্যাটারি বাঁচাতে গুগলের নতুন নীতি


ব্যাটারি সেভিংয়ের জন্য গুগলের নতুন নীতিমালায় আসছে বড় পরিবর্তন । ছবিঃ সংগৃহীত
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে Google। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে গুগল প্লে স্টোরে ‘ওয়েক লক টেকনিক্যাল কোয়ালিটি এনফোর্সমেন্ট’ নামে একটি কঠোর নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
গুগলের এই নতুন নীতির লক্ষ্য হলো এমন অ্যাপগুলোকে চিহ্নিত করা, যেগুলো ফোনের স্ক্রিন বন্ধ থাকার পরও প্রসেসর সচল রেখে অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ করে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অনেক সময় ব্যবহারকারীরা না জানলেও বিভিন্ন অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে, যার ফলে দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যায় এবং ফোন গরম হয়ে ওঠে।
‘ওয়েক লক’ মূলত এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে কোনো অ্যাপ ফোনের প্রসেসরকে পুরোপুরি বিশ্রামে যেতে বাধা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যবহার প্রয়োজনীয়—যেমন গান চালানোর সময় Spotify বা নেভিগেশনের জন্য Google Maps ব্যবহার করলে এটি যৌক্তিক। তবে অনেক অ্যাপ অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় প্রসেসর সচল রাখে, যা ব্যাটারির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো অ্যাপ ২৮ দিনের মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে গড়ে ২ ঘণ্টার বেশি সময় ওয়েক লক সক্রিয় রাখে, তাহলে সেটিকে ‘অতিরিক্ত ব্যাটারি ক্ষয়কারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এতে ডেভেলপারদের জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
গুগল জানিয়েছে, যেসব ডেভেলপার এই সমস্যার সমাধান করবে না, তাদের অ্যাপ প্লে স্টোরে বিভিন্নভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। অ্যাপের পাশে সতর্কতামূলক লেবেল দেওয়া হতে পারে, রেকমেন্ডেশন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে এবং সার্চ রেজাল্টেও কম দৃশ্যমান করা হবে। ফলে ব্যবহারকারীদের কাছে এসব অ্যাপ পৌঁছানো কঠিন হয়ে যাবে।
বিশেষ করে ডেটা সিঙ্ক ও ব্যাকআপ অ্যাপ, লোকেশন ট্র্যাকিং অ্যাপ এবং ব্লুটুথ বা অন্যান্য ডিভাইস সংযোগে ব্যবহৃত অ্যাপগুলো এই নজরদারির আওতায় থাকবে। কারণ এসব অ্যাপ অধিকাংশ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগলের এই পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন এবং ডিভাইসের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও উন্নত হবে। এতে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










