অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে ভুয়া স্ক্যাম লিংক শনাক্ত করবে চ্যাটজিপিটি প্রযুক্তি

প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রযুক্তি ডেস্ক
১৭ মার্চ, ২০২৬ এ ৭:৪৮ এএম
চ্যাটজিপিটিতে স্ক্যাম শনাক্ত প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় অনলাইন নিরাপত্তা আরও জোরদার

চ্যাটজিপিটিতে স্ক্যাম শনাক্ত প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় অনলাইন নিরাপত্তা আরও জোরদার

ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন ফিচার যুক্ত হয়েছে চ্যাটজিপিটিতে। এখন ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক লিংক, মেসেজ বা কল সহজেই যাচাই করতে পারবেন। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ম্যালওয়ারবাইটসের সঙ্গে সমন্বয়ে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে, যা অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে সহায়ক হবে।

ডিজিটাল যুগে অনলাইন প্রতারণার কৌশল দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। অচেনা লিংক, প্রলোভনমূলক অফার কিংবা সন্দেহজনক ই-মেইলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই প্রতারকদের ফাঁদে পড়ছেন। এই ঝুঁকি কমাতে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ম্যালওয়ারবাইটসের উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি।

নতুন এই ফিচারটি মূলত একটি স্মার্ট ‘স্ক্যাম ডিটেক্টর’ হিসেবে কাজ করবে। আগে সন্দেহজনক কোনো লিংক বা বার্তা যাচাই করতে আলাদা অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হতো। এখন ব্যবহারকারীরা সরাসরি চ্যাটজিপিটির মধ্যেই মেসেজ বা লিংক পেস্ট করে দ্রুত জানতে পারবেন সেটি নিরাপদ কি না।

এই সুবিধার মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা ই-মেইলে পাওয়া অস্বাভাবিক বার্তা সহজেই যাচাই করা যাবে। পাশাপাশি অপরিচিত ওয়েব লিংক, ফোন নম্বর কিংবা এসএমএসের নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ফিশিং ই-মেইল শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্যবহার পদ্ধতিও সহজ রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রথমে চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টে লগইন করে সেটিংস থেকে ‘অ্যাপস’ বিভাগে গিয়ে ম্যালওয়ারবাইটস কানেক্ট করতে হবে। এরপর চ্যাট উইন্ডোতেই সন্দেহজনক তথ্য পেস্ট করে বিশ্লেষণ করা যাবে।

বর্তমানে অনেক প্রতারক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁত স্ক্যাম বার্তা তৈরি করছে, যা সহজে বোঝা যায় না। এই পরিস্থিতিতে ম্যালওয়ারবাইটসের নিরাপত্তা ডাটাবেস এবং চ্যাটজিপিটির বিশ্লেষণ ক্ষমতা একসঙ্গে কাজ করে ঝুঁকি শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সুবিধা সাধারণ ব্যবহারকারী ও পেইড সাবস্ক্রাইবার—উভয়ের জন্যই উন্মুক্ত।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সচেতনতাও জরুরি। অচেনা লিংকে ক্লিক করা বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকাই অনলাইন নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।