ইসলামিক বিধান অনুযায়ী রোজা রেখে যেসব কাজ নিষিদ্ধ


রমজান মাসে রোজা পালন ও ইবাদতের গুরুত্ব। ছবি: সংগৃহীত
মাহে রমজান হলো রহমত, বরকত ও ক্ষমার মাস। এটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি, ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাস এবং নেক আমলে প্রতিযোগিতার সময়। রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সেরা সুযোগ।
রমজান মাসে রোজা রাখা মানে শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করা নয়, বরং নিজের ইচ্ছা-প্রবৃত্তিকে আল্লাহর নির্দেশনার অধীনে আনা। এ মাসে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও নেক আমল সবই তাকওয়া অর্জনের উপায়। একজন সচেতন মুসলমানের জন্য জরুরি নিজের ফরজ দায়িত্ব পালন ও হারাম বিষয় থেকে বিরত থাকা।
রোজাদারের জন্য মাকরূহ ও নাজায়েজ কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে—
রোজা অবস্থায় মিথ্যা বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, গীবত, চুগলখুরী, অশ্লীল কাজ ও কথাবার্তা বলা, অন্যের প্রতি জুলুম করা, শত্রুতা রাখা, বেগানা নারীর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা করা বা তাদের দেখা, সিনেমা দেখা, মোবাইল বা অন্য মাধ্যমে বেগানা নারী-পুরুষের ছবি দেখা—এই সব কাজ রোজার মর্যাদা কমিয়ে দেয়।
বিনা প্রয়োজনে কোনো জিনিস চিবানো বা চেখে দেখা মাকরূহ। তবে পরিবারের মধ্যে সমস্যা থাকলে তুচ্ছভাবে খাবার চেখে তা ফেলে দেওয়ার অনুমতি আছে। পায়খানার পানি ব্যবহার বা ওজুতে নাক-গলা ধোয়ার সময় অতিরিক্ত পানি যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
রোজা অবস্থায় শাহওয়াত ছাড়া স্ত্রীকে চুম্বন বা আলিঙ্গন করা মাকরূহ নয়। রাতের সহবাসের পর সুবহে সাদেকের আগে গোসল না করলে রোজা মাকরূহ হবে না, তবে সুবহে সাদেকের আগে গোসল উত্তম। ক্লান্ত বা অসুস্থ মুসাফিরের জন্য রোজা রাখা মাকরূহ। চুল বা নখ কাটলে, চোখে সুরমা বা ঔষধ দেওয়ার মাধ্যমে রোজা ভাঙে না।
রমজান মাসের এই বিধানগুলো মানলে রোজাদারের তাকওয়া বৃদ্ধি পায় এবং আত্মশুদ্ধি অর্জনের পথ সুগম হয়।










