প্রতিটি ছাত্র হবে একেকজন যোদ্ধা: টঙ্গীতে জামায়াত আমির এর বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
১৭ মার্চ, ২০২৬ এ ৪:৩১ এএম
টঙ্গীতে ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

টঙ্গীতে ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজেদেরকে যোগ্য ও সংগ্রামী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ইফতার ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “প্রতিটি ছাত্র হবে একেকজন যোদ্ধা। শুধু পাঠ্যসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিটি পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, তা'মীরুল মিল্লাত প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল ইমানদার, দেশপ্রেমিক ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা। বর্তমান সময়ে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রতিষ্ঠানের তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়াকে তিনি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন।

জামায়াত আমির বলেন, “আজ যারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নেতৃত্বে আসছেন, তারাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন।” তিনি দেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সৎ ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার যে সকল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তাদের অবদান স্মরণ করে উপস্থিতদের দোয়া করার আহ্বান জানান।

তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল এহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য আব্দুর রব, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবাহ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা ও মূল্যবোধের সমন্বয় প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেন।