ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ? যা জানালেন নিজেই


রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। ছবি সংগৃহীত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে তাকে প্রার্থী হওয়ার প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন তথ্য জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “দলের পক্ষ থেকে আমাকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে প্রার্থী হতে বলা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।” তিনি দাবি করেন, খুব তড়িঘড়ি করে ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে এ ধরনের নিয়োগের বিধান ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা দায়িত্বহীন হয়ে পড়েন বা অনুপস্থিত থাকেন। তখন সরকার প্রশাসক নিয়োগের বিধান করে। তবে তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার আইন থাকা সত্ত্বেও ব্যাপকভাবে তা ব্যবহার করেনি; কেবল একটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছিল।
বর্তমান রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্থানে দলীয়ভাবে বঞ্চিত বা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রতিনিধিশূন্য থাকায় নাগরিক সেবায় ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ নেই, যা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত থাকা উচিত। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের নামে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি এর নিন্দা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নানা কারচুপির অভিযোগের মধ্যেও দল থেকে ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নিজেকে দেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য দাবি করেন এবং নির্বাচনের দিন হামলার শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এনসিপি আগামী প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা প্রকাশিত হয়নি। এ বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা এলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










