হাসিনার সন্তানদের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে জনগণ প্রতিহত করবে: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৬:৫৪ এএম
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। ছবি সংগৃহীত

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। ছবি সংগৃহীত

শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা করা হলে তা জনগণ প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জে এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভুইঘর এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে ১১-দলীয় জোটসহ দেশের জনগণ তা প্রতিরোধ করবে।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা বিদেশি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরা দেশে ফিরে আসতে পারে। তার মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরানোর জন্য ৫ আগস্ট হাজারো ছাত্র-জনতা জীবন ঝুঁকিতে ফেলেনি। ওই দিনের আন্দোলনকে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেটি ছিল ক্ষমতাচ্যুতি ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ৫ আগস্ট যদি আন্দোলনের মাধ্যমে একটি পরিবর্তন সম্ভব হয়ে থাকে, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের বিজয়ও অসম্ভব নয়। তিনি ভোটারদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে দুঃশাসন, গুম-খুন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ১১-দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ দুটি বিষয়ের বিরুদ্ধে রায় দেবে—সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি, এবং দুর্নীতি ও অর্থপাচার।

মামুনুল হক আরও বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলোতে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। তার মতে, সেই কারণেই মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের জন্য আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে ভোটারদের রায় ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।