স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দেবে এনসিপি-জামায়াত, জানালেন সারজিস আলম

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৫৭ পিএম
এনসিপি ও জামায়াত। ছবি সংগৃহীত

এনসিপি ও জামায়াত। ছবি সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলা মোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। যদিও সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই দল জোটবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিল।

সারজিস আলম বলেন, জামায়াত ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে এককভাবে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। এনসিপিও নিজস্ব অবস্থান থেকে পৃথকভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে ১১ দলীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি জানান, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে এনসিপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯৫টি উপজেলা ও ৩৩০টি পৌরসভায় প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দল থেকে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি ছয়টি সিটি করপোরেশনে দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন রয়েছে। তার অভিযোগ, এসব নিয়োগে মেয়াদের সময়সীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি নাগরিক সেবায় প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বহু প্রতিষ্ঠান জনপ্রতিনিধিশূন্য। এতে নাগরিক সেবায় ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসঙ্গেও তিনি বক্তব্য দেন এবং যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হান্নান মাসউদ দাবি করেন, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাদের দল থেকে ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নিজের ওপর হামলার অভিযোগও তুলে ধরেন।

দলটির পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানানো হয় এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।