২১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনতার ঢল, সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:১৪ এএম
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল। ছবিঃ সংগৃহীত

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল। ছবিঃ সংগৃহীত

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় শহীদ মিনার চত্বর। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে জনসমাগম, যা সকাল গড়াতেই রূপ নেয় জনসমুদ্রে।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছে। শহীদ মিনারমুখী মানুষের অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন—সব মিলিয়ে প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ।

একুশের প্রথম প্রহরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। পরে বিএনপির নেতারাও দলীয়ভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাধারণ মানুষের জন্য বেদী উন্মুক্ত করা হয়।

পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে তারা নীরবতা পালন করেন।

তিন বাহিনীর প্রধানের পর শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আখতার হোসেইনসহ অন্যরা। পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনার শ্রদ্ধা জানান।

দিবসটি ঘিরে পুরো শহীদ মিনার এলাকা রাখা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন ও প্রভাতফেরি কর্মসূচি চলছে। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় দিনভর চলবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্মরণানুষ্ঠান।