শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১৯ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৪৪ এএম
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ছবি: সংগৃহীত

ডিজিএফআই-এর জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১২ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য এবং সাক্ষ্যগ্রহণ আজ (১৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে। এই মামলার বিচার International Crimes Tribunal–1 এর তিন সদস্যের প্যানেলে অনুষ্ঠিত হবে।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে সোমবার এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গত ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৩ আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন। সেই দিনই আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

মামলার ১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন তিনজন: ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন: লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

অন্যান্য পলাতক আসামিরা হলেন: শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এসব ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, এ সময়ে ২৬ জনকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে।
আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আইনবিশেষজ্ঞরা এই বিচার প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন।