ঢাকার দূষণ কমাতে ৪৫২৮ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১০:১১ এএম
ঢাকার দূষণ কমাতে ও নদী-খাল পুনরুদ্ধারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫২৮ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন। ছবি সংগৃহীত

ঢাকার দূষণ কমাতে ও নদী-খাল পুনরুদ্ধারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫২৮ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন। ছবি সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার স্যানিটেশন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি দূষণ কমাতে ৩৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায়, প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩৯ পয়সা হিসেবে এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থাটির বোর্ড সভায় ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। বুধবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মেট্রো ঢাকা পানি নিরাপত্তা ও টেকসই কর্মসূচি’র আওতায় বৃহত্তর ঢাকায় পানি দূষণ কমাতে স্থানীয় ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। কর্মসূচির মাধ্যমে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার কার্যক্রম জোরদার করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ পানি এবং ৫ লাখ মানুষকে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় আনা। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেম বলেন, বৃহত্তর ঢাকার লাখো মানুষের জন্য পানি জীবনরেখা। তবে দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং শিল্পায়নের কারণে দূষণ বাড়ছে। তিনি জানান, এ কর্মসূচি ঢাকার নদী ও খালের দূষণ কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় মাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দার পাইপযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ রয়েছে। কার্যকর মল-মূত্র ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করেন মাত্র ২ শতাংশ মানুষ। অপরিশোধিত বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশনের বড় অংশ সরাসরি জলপথে পড়ছে। এতে নদী ও খালের প্রবাহ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

সিনিয়র পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার হার্ষা গোয়েল বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দূষণ নির্গমন কমানো, নদীর পানির মান পর্যবেক্ষণ জোরদার, ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং চালু এবং ঢাকার চার নদীর জন্য সমন্বিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্বাচিত এলাকায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আশা করছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।