প্রস্তাবিত বেতন স্কেল বাস্তবায়ন সময়োপযোগী ও যৌক্তিক: BASA

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:২২ এএম
প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেল নিয়ে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য। ছবি সংগৃহীত

প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেল নিয়ে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য। ছবি সংগৃহীত

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ)। কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখিয়ে যে আপত্তি উঠেছে, তা পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নাকচ করেছে সংগঠনটি। BASA বলছে, রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন যৌক্তিক এবং প্রয়োজনীয়।

বিএএসএ জানায়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে একটি বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে BASA মনে করছে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বেতন স্কেল প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় এটি গ্রহণযোগ্য।

সংগঠনটির মতে, প্রস্তাবিত বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এমন দাবি বাস্তবভিত্তিক নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা মাত্র এক শতাংশ এবং জিডিপির অনুপাতে তাদের বেতন-ভাতার অংশ বর্তমানে প্রায় ১.২৫ শতাংশ। এত নগণ্য অংশে বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না বলেই প্রতীয়মান হয়।

BASA আরও জানায়, বাংলাদেশের জিডিপির বড় একটি অংশ ভোগ খাত থেকে আসে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের ভোগক্ষমতা বাড়বে, যা অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। সংগঠনটির দাবি, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেলে আয়কর ও ভ্যাট উভয় খাতেই রাজস্ব আদায় বাড়বে, কারণ সরকারি কর্মচারীদের বেতন থেকেই নিয়মিত উৎসে কর কাটা হয়।

সংগঠনটি সরকারি ও বেসরকারি খাতের বেতন বৈষম্যের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। BASA জানায়, অনেক ক্ষেত্রে এই বৈষম্য ১৫ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত। পাশাপাশি গত এক দশকের গড় মূল্যস্ফীতির কারণে ২০১৫ সালের তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে চার সদস্যের একটি পরিবারের মানসম্মত জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

সবশেষে BASA বলছে, দক্ষ, সৎ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে একটি যৌক্তিক ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো অপরিহার্য। প্রস্তাবিত বেতন স্কেল প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত না হলেও রাষ্ট্রের সক্ষমতা বিবেচনায় এটিই বর্তমানে বাস্তবসম্মত বিকল্প। সংগঠনটি দ্রুত এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।