দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি সফটওয়্যার চালু করল সরকার

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৫২ এএম
আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। ছবি সংগৃহীত

আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। ছবি সংগৃহীত

দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য স্বচ্ছ, নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী সভায় ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “অতীতের হয়রানি ও আর্থিক জালিয়াতির অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে। আবেদন ফি, নবায়ন ফি ও প্রসেসিং ফিসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বাতিল করা হয়েছে। ডিওআইসিটি’র ২৯ জন প্রকৌশলী আইডি ভেরিফিকেশনে দায়িত্ব পালন করবেন এবং চারজন সাপোর্ট এক্সপার্ট ফ্রিল্যান্সারদের কারিগরি সহায়তা প্রদান করবেন। খুব শিগগিরই এপিআই (API) ভিত্তিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু হবে।”

তিনি আরও জানান, “সাইটের ভিএপিটি (VAPT) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকেই ফ্রিল্যান্সাররা সাইন আপ করতে পারবেন এবং আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডার ও বাংলাদেশ কল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নয়নে কাজ করবে।”

আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি ফরমাল চিঠি পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে ম্যানুয়াল আইডির পরিবর্তে ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার আইডি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে পূর্ববর্তী জালিয়াতি ও হয়রানির চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডাররা স্বীকৃত পেমেন্ট মেথডে বার্ষিক ৫০ ডলারের মার্জিন গ্রহণ করেছেন।

নতুন এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি এটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবেও কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরন সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, “এই উদ্যোগের ফলে ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় যাচাই সহজ হবে, ব্যাংকিং ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।”

আইসিটি বিভাগের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ বলেন, “যারা পূর্বে প্রতারিত হয়েছেন, তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উদ্বোধনের পর উপস্থিত একজন ফ্রিল্যান্সারের আইডি কার্ড আবেদন অনুমোদন করা হয়। সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, আইসিটি অধিদফতরের মহাপরিচালক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, আপওয়ার্ক বাংলাদেশ গ্রুপের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার এবং বিভাগের কর্মকর্তা-প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।