পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: হাসিনা-টিউলিপ মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি


শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকের মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। ছবি: সংগৃহীত
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলার রায় আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী পাবলিক প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।
মামলাটি দায়ের করা হয়েছে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের নামে পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে। এ মামলায় শেখ হাসিনা, টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুনানিকালে কারাগার থেকে রাজউকের সাবেক সদস্য (ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ তার যুক্তিতর্কে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। অন্যদিকে খুরশীদ আলমের আইনজীবী আদালতের কাছে তার মক্কেলের খালাস প্রার্থনা করেন। মামলার অন্যান্য আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গত ৩১ জুলাই একই আদালত পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মামলায় শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর মধ্যে শেখ রেহানার নামে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত মামলার রায় ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে প্লট বরাদ্দের দুর্নীতি মামলায় আগামী ১৮ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। ওই মামলায় মঙ্গলবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আজমিনা সিদ্দিকের মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের একটি প্লট আজমিনা সিদ্দিকের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ছয়টি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানে শেখ হাসিনা, তাঁর সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের নামে প্লট বরাদ্দের তথ্য পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে গত বছরের ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি এসব অভিযোগে পৃথক মামলাগুলো দায়ের করে দুদক। চলতি বছরের ২৫ মার্চ ছয়টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যেখানে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়।
ইতোমধ্যে এসব মামলার মধ্যে চারটির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। চারটি মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।










