৫০তম বিসিএস প্রিলি: শেষ মুহূর্তে যে ১০ করণীয় জানতেই হবে


৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত চাকরিপ্রার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি সারা দেশের নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে ক্যাডার নিয়োগের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত এই পরীক্ষায় প্রথমবার অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের জন্য শেষ সময়ের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পর্যায়ে সঠিক কৌশল ও পরিকল্পনা অনুসরণ করলে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।
শেষ মুহূর্তে নতুন বই বা নতুন কোনো বিষয় ধরার চেয়ে এতদিন যা পড়া হয়েছে, সেগুলোই গুছিয়ে বারবার রিভিশন দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এতে ভুলের পরিমাণ কমে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। খুব জরুরি না হলে নতুন বিষয় পড়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা, কারণ অতিসাম্প্রতিক তথ্য সাধারণত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আসে না।
পরীক্ষার আগের এক সপ্তাহে নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়া প্রস্তুতির বড় অংশ হিসেবে বিবেচিত। ঘরে বসেই নির্ধারিত সময় ধরে অন্তত ৮ থেকে ১০টি মডেল টেস্ট দিলে নিজের প্রস্তুতির মান ও দুর্বলতা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। ভালো মানের বই বা নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মডেল টেস্টে যদি নম্বর ১২০–১৩০-এর নিচে থাকে, তাহলে দুর্বল বিষয়গুলো আলাদা করে চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ করা জরুরি।
প্রিলিমিনারিতে সময় বণ্টনের কৌশল বড় ভূমিকা রাখে। বাসার পরিবেশ আর পরীক্ষার হল এক নয়, তাই ঘরে বসেই দেড় ঘণ্টার মধ্যে পুরো প্রশ্নপত্র শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। কোন বিষয়ে কত সময় দেবেন, তা আগেই ঠিক করে রাখলে পরীক্ষার হলে অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার সম্ভব হয়।
উত্তর দেওয়ার সিকোয়েন্স ঠিক রাখাও মানসিক স্বস্তির সঙ্গে জড়িত। অনেক প্রার্থী সাধারণ জ্ঞান বা বাংলা দিয়ে শুরু করে পরে বিজ্ঞান এবং শেষে ইংরেজি ও গণিত রাখলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়; নিজের শক্তির জায়গা অনুযায়ী বিষয়গুলোর ক্রম ঠিক করাই সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করেন অভিজ্ঞরা।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মডেল টেস্টের মাধ্যমে কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি নেগেটিভ হচ্ছে, তা আগেই শনাক্ত করা জরুরি। এতে পরীক্ষার হলে কনফিউজড বা অনিশ্চিত প্রশ্ন এড়িয়ে চলার অভ্যাস তৈরি হয় এবং মোট স্কোর ধরে রাখা সহজ হয়।
ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার পরও অনেক সময় ফল আশানুরূপ নাও হতে পারে। তবে একই সমস্যা বারবার হলে হতাশ না হয়ে প্রস্তুতির পদ্ধতি, রিভিশন কৌশল, সময় ব্যবস্থাপনা কিংবা নেগেটিভ মার্কিং—কোন জায়গায় ঘাটতি হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন বলে মত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের।
শেষ সময়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরীক্ষার চাপ থেকে অনিদ্রা বা ‘সব ভুলে গেছি’—এমন অনুভূতি হওয়া স্বাভাবিক। পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা খাবার এবং চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা পরীক্ষার দিন মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।
পরীক্ষার আগের দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত। যে কলমে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেই ব্র্যান্ডের একাধিক কলম সঙ্গে রাখা ভালো। অ্যাডমিট কার্ড একাধিক কপি প্রিন্ট করে রাখা এবং পরীক্ষার হলে নিষিদ্ধ কোনো সামগ্রী সঙ্গে না নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।
পরীক্ষার দিন ওএমআর শিটে সব তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের সেট কোড মিলিয়ে দেখা এবং অপশন বাছাইয়ের সময় বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, বিসিএস প্রিলিমিনারিতে টিকে থাকতে সব বিষয়ে সমান দক্ষ হওয়া জরুরি নয়। দুর্বলতাকে ভয় না পেয়ে নিজের শক্ত দিকগুলো কাজে লাগাতে পারলেই সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রিলিমিনারিতে ১৩০ থেকে ১৪০ নম্বর নিশ্চিত করতে পারলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া সম্ভব।










