অনলাইন গেমিংয়ে নিষেধাজ্ঞার জেরে তিন বোনের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৮:১০ এএম
গাজিয়াবাদের একটি আবাসিক এলাকায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ—শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ছবি সংগৃহীত

গাজিয়াবাদের একটি আবাসিক এলাকায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ—শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ছবি সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি আবাসিক এলাকায় তিন নাবালিকা বোনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানায়, অনলাইন গেমিংয়ে অতিরিক্ত আসক্তি এবং দীর্ঘদিন সামাজিক ও শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কী ঘটেছে

শুক্রবার গভীর রাতে গাজিয়াবাদের একটি বহুতল আবাসনে ওই তিন কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

কারা তারা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন বোনের বয়স যথাক্রমে ১৬, ১৪ ও ১২ বছর। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত স্কুলে যেত না এবং মূলত ঘরেই অবস্থান করত।

কেন সন্দেহ গেমিং অ্যাপ নিয়ে

তদন্তে উঠে এসেছে, তারা একটি বিদেশি টাস্ক-ভিত্তিক অনলাইন গেমিং অ্যাপে অতিমাত্রায় যুক্ত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে কিছু হাতে লেখা কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এসব নথিতে গেম-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য

শালিমার গার্ডেন এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং ডিজিটাল ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

সামাজিক প্রেক্ষাপট ও সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক মেলামেশা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা অনেক শিশুকে অনলাইন আসক্তির ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই ঘটনা শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে আনল।

ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হলো।