ম্যাক্রোকে ক্ষমতাচ্যুতের হুঁশিয়ারি, ফ্রান্সে শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। ছবি সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি পরিষদে যোগ দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ফ্রান্সের ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাক্রোকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ হওয়ার মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোর প্রভাব দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং তিনি শিগগিরই ক্ষমতা হারাতে পারেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘কেউই আর তাকে চায় না। তিনি খুব শিগগিরই অফিস ছাড়ছেন। যদি তারা শত্রুতামূলক আচরণ করে, তাহলে আমি ফ্রান্সের ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব।’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, শুল্ক আরোপের পর ফ্রান্স বাধ্য হয়েই শান্তি পরিষদে যোগ দিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ফ্রান্স শান্তি বোর্ডে যোগ দিক বা না দিক, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে তার বক্তব্যে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ শব্দটি ব্যবহার করলেও ঠিক কী অর্থে তিনি এ কথা বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তার বর্তমান পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মে মাসে। এ বাস্তবতার মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে গঠিত বোর্ড অব পিস গত বছরের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের প্রতিনিধিরা।
এদিকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় নেতারা একমত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবে, কারণ এটি ‘বিশ্ব নিরাপত্তার’ জন্য জরুরি। তিনি দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্পের এসব কড়া হুমকির জেরে ইউরোপীয় দেশগুলো পাল্টা শুল্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। তবে ম্যাক্রোকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুঁশিয়ারির বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি ফরাসি প্রেসিডেন্ট।









