বাতিল শত শত ফ্লাইট

ভারি তুষারপাতে ইউরোপজুড়ে বিপর্যয়, নিহত ৬

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:২৫ এএম
ভারি তুষারপাতে ঢেকে গেছে ইউরোপের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন হাজারো যাত্রী। ছবি সংগৃহীত

ভারি তুষারপাতে ঢেকে গেছে ইউরোপের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন হাজারো যাত্রী। ছবি সংগৃহীত

ভারি তুষারপাত ও বরফাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ইউরোপজুড়ে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফ্রান্স ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমান ও রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) ইউরোপজুড়ে এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লঁদ এলাকায় বরফাচ্ছন্ন সড়কে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। এছাড়া প্যারিস অঞ্চলে আলাদা দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পূর্ব প্যারিসে একটি ভারি পণ্যবাহী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আরেক ঘটনায়, তুষারপাতের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্যাক্সি ফুটপাতে ধাক্কা দেয় এবং পরে গাড়িটি মার্ন নদীতে পড়ে গেলে একজন প্রাণ হারান।

বলকান অঞ্চলও তীব্র তুষারপাতের কবলে পড়েছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাজধানী সারায়েভোতে ভেজা তুষারের ভারে একটি গাছ ভেঙে পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইউরোপজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের রুয়াসি-শার্ল দ্য গল বিমানবন্দর বুধবার সকালে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে প্যারিসের অরলি বিমানবন্দর তাদের এক-চতুর্থাংশ ফ্লাইট বাতিল করার পরিকল্পনা করেছে। রানওয়ে থেকে তুষার পরিষ্কার এবং বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের স্কিপহোল বিমানবন্দরেও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। বুধবার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ পরিচালনা করছিল ডাচ এয়ারলাইন কেএলএম। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিমানের বরফ গলানোর তরল প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং চরম আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ডাচ সম্প্রচারমাধ্যম এনওএস জানিয়েছে, দিন শেষে স্কিপহোল থেকে আরও প্রায় ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।

ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। স্পেনের যাত্রী হাভিয়ের সেপুলভেদা রয়টার্সকে বলেন, “পরিস্থিতি ছিল পুরোপুরি অরাজক ও হতাশাজনক।” তিনি জানান, কেএলএম-এর সহায়তা ডেস্কে ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কোনো সমাধান পাননি। এদিকে স্কিপহোল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তুষার পরিষ্কারকারী দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তুষারপাতের প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। নেদারল্যান্ডসে আইটি বিভ্রাট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার সকালে সব ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে কিছু ট্রেন চালু হলেও দিনভর বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটে। আমস্টারডাম থেকে প্যারিসগামী ইউরোস্টার ট্রেনগুলো বাতিল বা বিলম্বে চলাচল করছে। ফ্রান্সের পরিবহণমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো জনগণকে অপ্রয়োজনে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।