সতর্ক করলেন গুতেরেস

বকেয়া চাঁদায় জর্জরিত জাতিসংঘ, অচল হওয়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:১০ এএম
অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ছবি সংগৃহীত

অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ছবি সংগৃহীত

নিউইয়র্ক | ২০২৬ সালের শুরু — মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে জাতিসংঘ (ইউএন)। দ্রুত বকেয়া চাঁদা পরিশোধ ও প্রচলিত আর্থিক কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার না হলে বিশ্ব সংস্থাটি কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে গুতেরেস জানান, চলতি অর্থবছরে নগদ অর্থের ঘাটতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন না এলে এবং বকেয়া চাঁদা দ্রুত পরিশোধ না হলে জাতিসংঘ ‘চূড়ান্ত ধসের’ মুখে পড়তে পারে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আগের বছরগুলোর মতো কার্যক্রম সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তারল্য এখন জাতিসংঘের হাতে নেই। সদস্য দেশগুলোকে অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, নইলে সামনে আর কোনো কার্যকর বিকল্প থাকবে না।”

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে সংস্থাটির বকেয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বিপুল বকেয়া অর্থ সংস্থার শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

যদিও কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থায় অর্থায়ন কমানোর ঘোষণা এবং বিকল্প বৈশ্বিক উদ্যোগের আলোচনা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বড় রাষ্ট্রগুলোর অনীহা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার উদ্যোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও জিডিপির ভিত্তিতে জাতিসংঘে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন প্রায় ২০ শতাংশ অর্থায়ন করে থাকে। মহাসচিব তার চিঠিতে সতর্ক করে বলেন, চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের নগদ অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে।

গুতেরেস আরও বলেন, প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ফেরত দেওয়ার যে পুরোনো নিয়ম রয়েছে, তা বর্তমান বাস্তবতায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। “যেখানে পর্যাপ্ত অর্থই নেই, সেখানে অর্থ ফেরতের এই নিয়ম সংস্থাটিকে এক ধরনের আর্থিক দুষ্টচক্রে আটকে ফেলেছে,” উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করেছে, যা জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।