এল মেনচো নিহতের পর মেক্সিকোতে তাণ্ডব, সহিংসতায় ন্যাশনাল গার্ডের ২৫ সদস্যসহ বহু নিহত

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:৩৭ এএম
এল মেনচোর মৃত্যুর পর জালিসকো প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও সহিংসতার চিত্র।ছবি সংগৃহীত

এল মেনচোর মৃত্যুর পর জালিসকো প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও সহিংসতার চিত্র।ছবি সংগৃহীত

মেক্সিকোর শীর্ষ মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’ সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। জালিসকো প্রদেশে সংঘটিত হামলা ও পাল্টা অভিযানে ন্যাশনাল গার্ডের অন্তত ২৫ সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিশেষ বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী ওমার গারসিয়া হারফুচ। খবর বিবিসির।

নিহত এল মেনচোর আসল নাম নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস। তিনি জালিসকো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) মাদক চক্রের প্রধান ছিলেন, যা মেক্সিকোর অন্যতম ভয়ংকর অপরাধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশটির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনী তার এক ঘনিষ্ঠ নারীর গতিবিধি অনুসরণ করে অবস্থান শনাক্ত করে। আটক অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে তিনি আহত হন এবং পরে মারা যান।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেক্সিকোর অন্তত ২০টি প্রদেশে সহিংসতা শুরু হয়। বিভিন্ন শহরে সশস্ত্র হামলা, অগ্নিসংযোগ ও রাস্তা অবরোধের ঘটনা ঘটে। কিছু এলাকায় রাস্তায় কাঁটা ও পেরেক ছড়িয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার কোথাও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমাঞ্চলে আড়াই হাজার সেনা মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্দো ত্রেভিলা।

নিরাপত্তামন্ত্রী ওমার গারসিয়া হারফুচ জানান, সহিংসতায় একজন কারারক্ষী, প্রাদেশিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের একজন সদস্য এবং সিজেএনজি চক্রের অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন। সামরিক অভিযানে এল মেনচোর ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন এবং তিন সেনা সদস্য আহত হন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, সোমবার সকাল নাগাদ প্রধান সড়কগুলো থেকে অবরোধ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে জালিসকোর গভর্নর পাবলো লেমুস নাভারো রাজ্যজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেন এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানান। সহিংসতার জেরে বহু শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায় এবং ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সহিংসতার বিস্তার ঠেকাতে সরকার কঠোর নজরদারি ও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রেখেছে। দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।