Something went wrong
চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদন

ইরানে হামলার প্রস্তুতির শেষ ধাপে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ১১:০৮ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র—প্রতীকী সংগৃহীত ছবি।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র—প্রতীকী সংগৃহীত ছবি।

ইরানে সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২। রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও হামলা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করছে ইসরাইল।

চ্যানেল-১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সম্ভাব্য হামলার পর দেশটির পক্ষ থেকে পাল্টা আক্রমণ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে ওয়াশিংটন।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন সম্পূর্ণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই অঞ্চলজুড়ে সামরিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত আট মাসের মধ্যে এবারই মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় পরিসরে সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র জড়ো করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার, একাধিক ফাইটার স্কোয়াড্রন এবং অতিরিক্ত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জানান, ইরানের দিকে একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর অগ্রসর হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করতে আগ্রহী নন এবং ইরান সরকারের সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা রাখতে চান।

এদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেয় দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে প্রায় চার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

চ্যানেল-১২ জানায়, বিক্ষোভ চলাকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হামলার হুমকি দিলেও পরে ইরান সরকার হত্যাকাণ্ড বন্ধ করায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথা জানান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড এখনো সাধারণ নাগরিকদের জন্য জারি করা নির্দেশনা পরিবর্তন করেনি, যদিও পরিস্থিতির অবনতি হলে তা সংশোধন করা হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তাদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে তারা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে।

সূত্র: চ্যানেল-১২

Advertisement
Advertisement