যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন, সতর্ক করলেন নিকি হ্যালি


সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কে দেখা দিয়েছে টানাপোড়েন। যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে আরও শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছে। এমন উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, ভারতকে কখনোই চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বুধবার (২০ আগস্ট) নিউজউইক পত্রিকায় প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে নিকি হ্যালি লেখেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি কিংবা ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার মতো বিষয়গুলো বিশ্বের বৃহত্তম দুটি গণতন্ত্রের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মার্কিন বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারতকে শক্তিশালী সহযোগী হিসেবে পাশে রাখা প্রয়োজন।
গত কয়েক সপ্তাহে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জেরে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ২৫ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছে। এর আগে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছিল সমান শুল্ক। অন্যদিকে, নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে— শুল্ক বিষয়ক আলোচনাই এখন চলমান, তবে এতে তৃতীয় পক্ষের কোনো চাপ তারা মানবে না।
এমনকি ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনা নিয়েও ট্রাম্পের মন্তব্যকে গুরুত্ব দেয়নি ভারত। একাধিকবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে ‘পরমাণু যুদ্ধ’ ঠেকানো হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেই বলেন, এই সংঘাতে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে নিকি হ্যালি মনে করিয়ে দেন, ভারত হলো বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং এশিয়ায় চীনা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একমাত্র কার্যকর শক্তি। তার ভাষায়, মার্কিন-ভারত সম্পর্ককে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সতর্ক করেন, ২৫ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভেঙে ফেলা হবে একটি ভয়াবহ কৌশলগত ভুল।
সূত্র: এনডিটিভি









