‘পুরো মধ্যপ্রাচ্য ইসরাইলের’—মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৬:২৭ এএম
মাইক হাকাবি। ছবি: সংগৃহীত

মাইক হাকাবি। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল একটি অংশের ওপর ইসরাইলের অধিকার রয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেওয়া এ মন্তব্য ঘিরে আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাক্ষাৎকারটি নেন মার্কিন রক্ষণশীল উপস্থাপক টাকার কার্লসন। বক্তব্যটি এমন এক সময় এসেছে, যখন অঞ্চলটি গাজা ও লেবাননকে ঘিরে উত্তেজনায় রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে কার্লসন বাইবেলের ‘বুক অব জেনেসিস’-এর উল্লেখ করে বলেন, আব্রাহামের বংশধরদের জন্য প্রতিশ্রুত ভূমির সীমানা নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত বিস্তৃত—যার মধ্যে বর্তমানের বহু আরব রাষ্ট্রের অংশ পড়ে। এর জবাবে হাকাবি বলেন, ইসরাইল যদি সেই পুরো ভূখণ্ড পেত তবে তা ‘খারাপ হতো না’। তবে তিনি দাবি করেন, ইসরাইল বর্তমানে সীমান্ত সম্প্রসারণ নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেশি আগ্রহী।

রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, কুয়েত ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা জানায়। আন্তর্জাতিক ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি এবং **আরব লীগ**ও বিবৃতি দিয়ে এ বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে আখ্যা দেয়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যটিকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে।

মিশর জানিয়েছে, কোনো ধর্মীয় ব্যাখ্যার ভিত্তিতে অন্য দেশের ভূখণ্ডের দাবি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তাদের মতে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বা অন্য কোনো আরব ভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব নেই। আরব লীগের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়, এ ধরনের বক্তব্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ধর্মীয় ও জাতীয় আবেগকে উসকে দিতে পারে।

হাকাবি দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকটের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি একজন ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান নেতা হিসেবেও পরিচিত। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরাইল বিভিন্ন যুদ্ধ ও চুক্তির মাধ্যমে সীমানা পরিবর্তন করেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ সমর্থন করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে পশ্চিম তীর দখলকে সমর্থন না করার কথা বললেও, ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ ধারণা নিয়ে বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সূত্র: এপি।