তিন মাসের মাথায় সংসদ ভেঙে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ সম্মেলনে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি সংগৃহীত
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী শুক্রবার নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্যয় পরিকল্পনা, করছাড় ও নতুন নিরাপত্তা নীতির পক্ষে জনসমর্থন আদায়ই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, এই নির্বাচনে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছেন। তাঁর ভাষায়, দেশের শাসনভার জনগণ তাঁর ওপর ন্যস্ত করতে চায় কি না, সে বিষয়ে সরাসরি রায় চান তিনি। এই নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে তাঁর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ।
জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাকাইচির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের সবগুলোতেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করা এবং জোট সরকারের নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মজবুত করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
নির্বাচনের আগে তাকাইচি সরকার খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত ৮ শতাংশ কর দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এতে বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি ইয়েন রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। এই ঘোষণার পর জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ২৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ নাগরিক মূল্যস্ফীতিকে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন। এরপর রয়েছে কূটনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা। বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এখন জাপানের ভোটারদের প্রধান উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।
এদিকে তাকাইচি সরকার প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা কয়েক দশকের নীতিতে বড় পরিবর্তন। তাইওয়ান ইস্যুতে সাম্প্রতিক বক্তব্যের জেরে চীন জাপানের ওপর কিছু দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে সংলাপের পথ তিনি সব সময় খোলা রাখতে চান।
অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি ও নিরাপত্তা—এই তিনটি ইস্যুকে সামনে রেখে ডাকা আগাম নির্বাচন জাপানের রাজনীতিতে বড় মোড় আনতে পারে। ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্ব কতটা জনসমর্থন পাচ্ছে এবং তিনি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটা স্থায়ী হতে পারবেন।









