জেনেভা বৈঠকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে ৩ শতাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:২৯ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েনকৃত যুদ্ধবিমান।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েনকৃত যুদ্ধবিমান।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনার আগে মধ্যপ্রাচ্যে তিন শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণে জানা গেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় বৈঠকের প্রাক্কালে এ তথ্য প্রকাশ করে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু। এসব বিমান ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে অবস্থান করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানগুলো মূলত কাতারের আল-উদেইদ, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্যারিয়ারভিত্তিক বিমান মোতায়েন আছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রায় ২৭০টি সি–১৭ ও সি–৫ পরিবহন ফ্লাইটের মাধ্যমে এই সমাবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আনুমানিক ৭৫টি কেসি–৪৬ ও কেসি–১৩৫ ট্যাংকার বিমান সেন্টকমের বহরে রয়েছে বা সেখানে যাওয়ার পথে রয়েছে।

মোতায়েনকৃত বহরের প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ/এ-১৮ই/এফ, ৩৬টি এফ–১৫ই, ৪৮টি এফ–১৬সি/সিজে/সিএম এবং ৪২টি এফ–৩৫এ/সি। বাকি ৩০ শতাংশ বিশেষায়িত বিমান—১৮টি ইএ–১৮জি গ্রাউলার, ১২টি এ–১০সি, ৫টি ই–১১এ বিএসিএন এবং ৬টি ই–৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস। তবে গত বছরের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ব্যবহৃত বি–২ বোমারু বিমানের নতুন কোনো গতিবিধি শনাক্ত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সমাবেশের পাশাপাশি ইসরায়েলও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য অভিযানে তারা যুক্ত হলে সম্মিলিত আকাশশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে ৬৬টি এফ–১৫আই/সি/ডি, ১৭৩টি এফ–১৬আই/সি/ডি এবং ৪৮টি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলেও প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প খোলা রেখেছেন। মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম অপশন সবসময় কূটনীতি। তবে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি ব্যবহারে তিনি প্রস্তুত।”

এই পরিস্থিতিতে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ইরান একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক প্রস্তুতি—দুই সমান্তরাল প্রক্রিয়াই এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।