জাপানের নির্বাচনে তাকাইচির এলডিপির ভূমিধস জয়


সানায়ে তাকাইচি। ছবি: সংগৃহীত
জাপানের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে দলটি।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে এলডিপি ইতোমধ্যে ৩৫২টি আসনে জয় পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ আসনের তুলনায় এটি অনেক বেশি। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি।
নির্বাচনে জয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির গুরুত্বের ওপর ধারাবাহিকভাবে জোর দিয়েছি। সামনে আর্থিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।” তিনি এই জয়কে জনগণের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগতভাবে তাকাইচি ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও, তার দল এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে তহবিল জালিয়াতি ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে চাপে ছিল। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাস পরই তিনি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচি দলীয় নেতৃত্ব পাওয়ার চার মাসের মধ্যেই জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ম্যান্ডেট নিতে এই নির্বাচন আয়োজন করেন। তার এই কৌশল রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও ফলাফল এলডিপির পক্ষে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচির এই সাফল্য তার দুই পূর্বসূরির সময়ের সঙ্গে স্পষ্টভাবে বিপরীত। আগের সরকারগুলোর আমলে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলডিপি সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে জাপানে এলডিপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব এবং তাকাইচির উচ্চ জনপ্রিয়তাই এবারের নির্বাচনে দলটির বড় জয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি










