কিমকে হত্যা করা হলে পারমাণবিক প্রতিহামলার সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১১ মে, ২০২৬ এ ৩:৪৩ এএম
কিম জং উন এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ঘাঁটি: স্বয়ংক্রিয় প্রতিহামলার প্রস্তুতি।

কিম জং উন এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ঘাঁটি: স্বয়ংক্রিয় প্রতিহামলার প্রস্তুতি।

উত্তর কোরিয়া তাদের সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে, যা অনুযায়ী দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে হত্যা করলে পারমাণবিক বাহিনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিহামলা চালাবে। নতুন নীতি ২২ মার্চ পিয়ংইয়ং-এ অনুমোদিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (NIS) সম্প্রতি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেছে।

 

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে লক্ষ্য করে কোনো আক্রমণ হলে দেশটির পারমাণবিক বাহিনী আগে থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে। সংবিধানের সংশোধন অনুযায়ী, শীর্ষ নেতৃত্ব যদি হামলার সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবস্থায় না থাকে, তবেই এই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তাতেই পিয়ংইয়ং এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কিম জং উন তার নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষিতে এমন পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ২২ মার্চ ‘সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি’-এর অধিবেশনে এই সাংবিধানিক পরিবর্তন অনুমোদন করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার NIS কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে।

নতুন সংবিধান অনুযায়ী, যদি বৈরী শক্তি পারমাণবিক কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থা বিপন্ন করে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি পারমাণবিক হামলা পরিচালিত হবে। এর মানে হলো শীর্ষ নেতৃত্ব যদি সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, সামরিক ব্যবস্থা পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবে।

এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, সংবিধান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘পুনরেকত্রীকরণ’ সম্পর্কিত সব শব্দ মুছে ফেলা হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রধান শত্রু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কিম জং উন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দুই কোরিয়া এখন আলাদা ও শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ‘অটোমেটিক স্ট্রাইক’ নীতি পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়াবে। ছোট ভুল বোঝাবুঝি বা যান্ত্রিক ত্রুটিও বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার সামরিক এবং কূটনৈতিক পরবর্তী পদক্ষেপ মনিটর করা হচ্ছে, কারণ এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।