বিশ্ব হাতি দিবসে হাতি সংরক্ষণ প্রকল্প নিল সরকার

দায়িত্ব নেওয়ার পর ১২টা হাতি মরে গেছে : সৈয়দা রিজওয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ আগস্ট, ২০২৫ এ ৯:২০ এএম
বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবি : সংগৃহীত

হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ ছাড়া হাতি রক্ষা সম্ভব নয়। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরই ১২টি হাতি মারা গেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বুধবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বন ভবনে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য দেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, হাতির উপযোগী গাছ লাগানো, করিডোর চিহ্নিত করে মুক্ত রাখা, জরিপের মাধ্যমে সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ এবং মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ক্যাপটিভ হাতি নিয়ন্ত্রণ, গ্রামীণ জনগণকে সচেতন করা এবং হাতির জন্য টেকসই আবাসস্থল নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি জানান, হাতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে খাদ্যোপযোগী গাছের বাগান, ৫০ হেক্টর বাঁশবাগান সৃজন এবং রোপিত উদ্ভিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, ইকোলোজিক্যাল বাউন্ডারি বায়োফেন্সিং নির্মাণ করা হবে, যেখানে কাঁটাজাতীয় জীবন্ত বেড়া দিয়ে ১০ কিলোমিটার সীমানা তৈরি হবে। একই সঙ্গে অ্যান্টি ডেপ্রেডেশন স্কোয়াড, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম ও রেসকিউ টিম গঠন করা হবে। হাতির চলাচল পর্যবেক্ষণে ১৬টি ট্রি টাওয়ার এবং গাজীপুর ও ডুলাহাজারায় দুটি উদ্ধারকেন্দ্র স্থাপন হবে।

এছাড়া আহত হাতির চিকিৎসার জন্য সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও শেরপুরে অস্থায়ী সেড তৈরি করা হবে। পাশাপাশি মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে নৃ-বৈজ্ঞানিক জরিপ এবং চট্টগ্রামের চুনতিতে দশ একর জায়গায় নতুন হাতি অভয়ারণ্য স্থাপন করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. খায়রুল হাসান, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ খান, বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন, ড. মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব এবং মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী।