আলভী ও তিথির ‘গ্রেফতার’ নিয়ে ভাইরাল দাবির সত্যতা কী—ফ্যাক্টচেকে যা জানা গেল


সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া আলভী ও তিথির ‘গ্রেফতার’ দাবির সত্যতা যাচাই করছে ফ্যাক্টচেক প্ল্যাটফর্ম। ছবি সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেতা যাহের আলভী ও অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকে গ্রেফতার করা হয়েছে—এমন দাবি ঘিরে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব দাবি বিভ্রান্তিকর এবং প্রচারিত অনেক ছবি-ভিডিও ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আত্মহত্যা করার ঘটনায়। এ ঘটনায় আলভীসহ দুজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর সামাজিক মাধ্যমে আলভী গ্রেফতার হয়েছেন—এমন দাবি তুলে একাধিক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
একই সঙ্গে ‘অবশেষে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার হলেন আলভীর পরকীয়া প্রেমিকা ইফফাত আরা তিথি’—এমন শিরোনামে একটি ছবিও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হয়। তবে রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিটি প্রকৃত নয়। মূলত অন্য একজন নারীর ছবিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে ওই ছবি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ‘আওয়ামী লীগ নেত্রীকে অবরুদ্ধ করে পুলিশে সোপর্দ’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছবিটির আংশিক মিল পাওয়া গেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিতে থাকা নারীর পোশাক, ভঙ্গি ও আশপাশের পরিবেশ একই হলেও মুখমণ্ডলে ভিন্নতা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ মে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ফরাজীকান্দা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার তুশিকে আটক করেছিল পুলিশ। ভাইরাল ছবিটি আসলে সেই ঘটনারই ছবি, যেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে রজনী আক্তার তুশির মুখের স্থলে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির মুখ বসানো হয়েছে।
অন্যদিকে অভিনেতা যাহের আলভী গ্রেফতার হয়েছেন—এমন দাবিটিও সঠিক নয় বলে জানিয়েছে রিউমার স্ক্যানার। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলভীর গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ হয়নি। দেশটিভির ৫ মার্চের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলভী বর্তমানে দেশে নেই এবং তিনি নেপালে অবস্থান করছেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নাটকের শুটিং টিম ঢাকায় এলেও আলভী দেশে আসেননি। তার কথিত প্রেমিকা ইফফাত আরা তিথি ঢাকায় এলেও তিনি এই মামলার আসামি নন। মামলার আসামি হিসেবে আলভী ও তার মায়ের নাম রয়েছে।
এছাড়া আলভীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তাকে নিয়মিত সক্রিয় দেখা গেছে। গ্রেফতার হলে স্বাভাবিকভাবে তার পক্ষে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা সম্ভব হতো না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওগুলো এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কিনা তা যাচাই করতে রিউমার স্ক্যানার গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত একটি ছবি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অন্য ছবি ও ভিডিওগুলো ‘হাইভ ডিটেক্ট’ নামের একটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম দিয়ে যাচাই করলে সেগুলোও কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিনেতা যাহের আলভী বা অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকে গ্রেফতার করা হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ভাইরাল হওয়া বেশিরভাগ ছবি ও ভিডিও ডিজিটাল প্রযুক্তি বা এআই ব্যবহার করে তৈরি বলে প্রমাণ মিলেছে।










