ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নব্য ফ্যাসিজম: সাদিক কায়েম

শিক্ষা ডেস্ক
শিক্ষা ডেস্ক
৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৬:৫৩ এএম
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে ‘নব্য ফ্যাসিজম’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির জারি করা নতুন নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার ইশারায় এবং কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সাধারণ ভোটারসহ সবাইকে মোবাইল ফোন ঘরে রেখে যেতে হবে। এতে নাগরিক সাংবাদিকতা কিংবা সাংবাদিকদের ফটো ও ভিডিও ধারণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও তার তথ্য বা ফুটেজ ভুক্তভোগীর কাছেও থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, কারা দেশের তরুণদের ভয় পায় এবং কারা নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে চায়—এই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। দেশের সর্বস্তরের তরুণদের উদ্দেশে তিনি আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান এবং বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তরুণদের হাতেই।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাদিক কায়েম বলেন, নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য বা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়নি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করাই ইসির মূল দায়িত্ব। তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ নির্দেশনা জারি করেন।

ভোটগ্রহণের দিন অধিকাংশ সাংবাদিক মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি ও রেকর্ডিং কাজ করে থাকেন। ফলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।