পাঁচ কার্গো এলএনজি ও ৭৫ হাজার টন সার কিনছে সরকার


জ্বালানি ও কৃষিখাতের চাহিদা পূরণে এলএনজি ও সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ছবি সংগৃহীত
দেশের জ্বালানি ও কৃষিখাতে চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং মোট ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্প, কৃষি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন পায়। এর মধ্যে সার ও এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্তকে দেশের কৃষি উৎপাদন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটি থেকে সার আমদানি করছে বাংলাদেশ।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১০ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কৃষি মৌসুমে সার সংকট এড়াতে এ আমদানি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ)’ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এই আমদানি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টন সারের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫২ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এলএনজি ও সার আমদানির এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আসন্ন মৌসুমে বিদ্যুৎ ও সার সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।










