জানুয়ারিতে রেকর্ড রিজার্ভ, ফের ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:২২ এএম
ডলার কেনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

ডলার কেনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এই প্রবাসী আয় ডলার সংকট কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। একইসঙ্গে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৬টি ব্যাংক থেকে মোট ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে।

মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে হওয়া এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এতে বাজারে ডলারের যোগান-চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছর ২০২৫–২৬ এ এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৪১৫ কোটি মার্কিন ডলার (৪ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। এতে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত সুরক্ষিত থাকবে এবং একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।”

প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় বাজার ব্যবস্থাপনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধারা বজায় থাকলে সামনের দিনগুলোতে ডলার বাজারে আরও স্থিতিশীলতা আসতে পারে।